‘১১ ঘণ্টা ঝুলে ছিল ভিডিও’, হ্যাকের দাবি মানছেন না পরীমনি
মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রামে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় চ্যানেলটির দুঃখপ্রকাশ প্রত্যাখ্যান করেছেন পরীমনি। জানুন পুরো ঘটনা ও সর্বশেষ অবস্থা।
মাছরাঙা টেলিভিশনের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ভুয়া ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় চ্যানেলটির ব্যাখ্যা ও দুঃখপ্রকাশে সন্তুষ্ট নন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তাঁর মতে, এত বড় একটি গণমাধ্যম শুধু “পেজ হ্যাক হয়েছে” বলে দায় এড়াতে পারে না।
কী ঘটেছিল
গত ১৩ অক্টোবর মাছরাঙা টেলিভিশনের যাচাইকৃত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পরীমনি ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে নিয়ে এআই দিয়ে তৈরি বিকৃত ভিডিও প্রকাশিত হয়। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রোফাইলের স্ক্রিনশট শেয়ার করে প্রশ্ন তুললে দেখা যায়, আগের রাতে সেখানে আপত্তিকর দৃশ্যসংবলিত পাঁচটি ভিডিও আপলোড হয়েছে; এর দুটিতে ছিল ওই দুই তারকার মতো দেখতে নারী, যা বিকেল পর্যন্ত চার লাখের বেশিবার দেখা হয়।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে ভিডিওগুলো ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ফেস সোয়াপ প্রযুক্তিতে অন্য ভিডিওতে দুই তারকার মুখ বসিয়ে এগুলো বানানো হয়েছে, এবং এসব সম্পাদিত ভিডিও আগেও বিভিন্ন প্রাপ্তবয়স্ক সাইটে ছড়িয়েছিল। ওই দিন বিকেল পাঁচটার পর থেকে ভিডিওগুলো আর প্রোফাইলে দেখা যায়নি।
মাছরাঙার বক্তব্য
একই দিন সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মাছরাঙা টেলিভিশন জানায়, ১৩ অক্টোবর ভোররাতে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বনানী থানা, সিআইডি, বিটিআরসি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করে কনটেন্টগুলো সরানো হয় বলে জানায় তারা।
ভিডিও কেন দীর্ঘ সময় সরানো যায়নি, সে বিষয়ে চ্যানেলটির ব্যাখ্যাও এসেছে। মাছরাঙার মাল্টিমিডিয়া ম্যানেজার মাহমুদ রুবেলের দাবি, হ্যাকাররা ওই পাঁচটি ভিডিও বুস্ট করে বিজ্ঞাপন চালাচ্ছিল, আর অ্যাড ম্যানেজারও তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় সারা দিন সেগুলো সরানো যায়নি। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তারা মামলা করেছেন।
লাইভে ক্ষোভ ঝাড়লেন পরীমনি
১৬ অক্টোবর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে পরীমনি এ ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। লাইভে তিনি জানান, ভিডিওটি তিনি প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগেই দেখেছিলেন এবং তখনই সেটি ভুয়া বলে সবাই জানতেন। কিন্তু একটি পরিচিত গণমাধ্যমের পেজ থেকে প্রকাশ হওয়ায় অনেকে বিষয়টিকে আসল ভেবে নিচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ।
চ্যানেলটির হ্যাকিংয়ের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এত শক্তিশালী একটি মিডিয়ার পেজে প্রমাণিতভাবে ১১ ঘণ্টা ভিডিওটি ঝুলে ছিল; এত আইন, এত প্রশাসন থাকার পরও কেন এক ঘণ্টা বা পাঁচ মিনিটে তা নামানো গেল না। তাঁর মতে, যে প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্ববোধ থাকার কথা, তাদের হাত দিয়ে যখন এ ধরনের কনটেন্ট ছড়ায়, তখন এর দায়ও তাদেরই।
এ ধরনের ভুয়া কনটেন্ট যারা অনলাইনে ছড়িয়ে বেড়ান, তাদেরও কঠোর সমালোচনা করেন পরীমনি। তাঁর অভিযোগ, কমেন্ট বক্সে লিংক ছড়ানোকেই কিছু মানুষ যেন জীবনের কাজ বানিয়ে নিয়েছেন।
দীর্ঘ লাইভের পর পরীমনি ভিডিওটি নিজের পেজ থেকে সরিয়ে নেন এবং শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এক সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাসে মুছে ফেলার কথা জানান।
‘অপরাধী তো এখন আপনারাই’
একই দিন বিকেলে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে সরাসরি মাছরাঙা টেলিভিশনকে উদ্দেশ করে লেখেন পরীমনি। তিনি জানান, চ্যানেলটির ফটোকার্ডে দেওয়া দুঃখপ্রকাশ কোনো কাজে আসছে না, এবং তাঁর স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠার সম্পূর্ণ দায় তাদের।
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কাজ হোক বা ব্যক্তিগত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্টই দিতে পারছেন না তিনি; এমনকি তাঁর সন্তানদের ছবিতেও হাজার হাজার বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার যে প্রতিশ্রুতি চ্যানেলটি দিয়েছিল, তা কবে বাস্তবায়ন হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেহজাবীনও
একই ঘটনায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও ডিপফেকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনা ঘিরে ছড়িয়েছে আরও গুজব
এই আলোচনার মধ্যে পরীমনির নামে ভুয়া বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে। একটি ফেসবুক পেজে মাছরাঙার আদলে বানানো ফটোকার্ডে রাজনৈতিক নেতাদের ভিডিও ফাঁসের হুমকি দেওয়ার একটি মন্তব্য পরীমনির নামে প্রচার করা হয়, কিন্তু রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, তিনি এমন কোনো মন্তব্যই করেননি।
সর্বশেষ অবস্থা
২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাছরাঙা টেলিভিশন মামলা করার কথা জানালেও হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসেনি। পরীমনিও এখন পর্যন্ত নিজে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।